হে বোন তোমাকেই বলছি

0
38

বিবাহিতা বোনদের জন্য অসামান্য উপহার


মন দিয়ে কথা গুলো একবার ভাবুন।

বিয়ের পর শুরুতেই আপনার স্বামীর জ্ঞান ও যোগ্যতার স্তর সম্পর্কে ধারণা নিন। আপনার চেয়ে কম বা বেশি যেটাই হোক- তার মতামত, ইচ্ছা ও সিদ্ধন্তকে ঠেকায় পড়ে নয়; সন্তুষ্টচিত্তে প্রাধান্য দিন।


স্বামীকে সম্মান করুন। শ্রদ্ধা করুন। মনে রাখবেন- সম্মান ও শ্রদ্ধাহীন সম্পর্ক এবং কচু পাতার পানির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আজ না হয় কাল- পড়ে যাবে।


নিষিদ্ধ বিষয় ছাড়া তার প্রতি অনুগত থাকুন। কতটা অনুগত? যতটা অনুগত থাকার জন্য হুজুর সা. একথা বলেছেন- ‘আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কাউকে যদি সিজদাহ করা জায়েজ হতো, তাহলে আমি স্ত্রীদেরকে হুকুম করতাম তারা যেন তাদের স্বামীকে সিজদাহ করে।’

সদাহাস্যজ্বল থাকুন। একথার অর্থ এই-না যে, সারাক্ষণ পাগলের মতো হাসতে হবে। অর্থাৎ স্বামীর সাথে হাসিমুখে কথা বলুন।


তার সাথে জেদ করবেন না। আড়াআড়ি করবেন না। মনে রাখবেন- স্বামীর সাথে জেদ করা মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা।


পুরুষ নারীর নমনীয়তাকে ভালোবাসে। কোমলতাকে ভালোবাসে। তার কাছে অমূল্য হতে চাইলে নিজেকে নমনীয় রেখে কোমল ব্যবহার রপ্ত করুন। সুখি হবেন।
লাজুক হোন। লাজুকতা পুরুষত্বকে আকর্ষণ করে। স্বামীর মনকে চুপিচুপি চুরি না করে সরাসরি ডাকাতি করে।


অতিরিক্ত সন্দেহ করা থেকে বিরত থাকুন। বিয়ের আগে অভিভাবকের মাধ্যমে ছেলের চারিত্রিক স্তর মেপে নিন। তবুও বিয়ের পর বিচ্যুতি দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে গোয়েন্দাগিরি না করে তার যত্ন নেয়া বাড়িয়ে দিন। তার বাবা-মাকে আগের চেয়ে বেশি ভালোবাসুন। তাদের প্রতি খুব খেয়াল রাখুন। স্বামীর কাপড়চোপড় সহ কখন কী প্রয়োজন ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র সহ সাংসারিক টুকিটাকি বিষয় নখদর্পণে রাখুন। তার সবকিছুতে যত্নের ছোঁয়া লাগিয়ে দিন। তার ভালো লাগা বিষয়কে নিজেও পছন্দ করুন, আর অপছন্দনীয় বিষয়কে অপছন্দ করুন।


তাকে একথা বুঝিয়ে দিন- পৃথিবীতে আপনার চেয়ে বেশি ভালোবাসা তাকে আর কেউ দিতে পারবে না! তবে সাবধান! মুখে নয়; কাজে প্রমাণ করুন। পারলে সুযোগ বুঝে চিরকুটে কিছু লিখে তার টেবিলে, জামার পকেটে অথবা সহজে চোখে পড়ে এমন স্থানে রেখে দিন। ম্যাজিক হবে ম্যাজিক।


অলসতা ঝেড়ে ফেলুন। খুব ভোরে ওঠার অভ্যাস করুন। এটা স্বামীর বাড়ি। শশুড়-শাশুড়ি, দেবর-ননদ আছে এখানে। সবার মন বুঝে সবাইকে বশে নিয়ে আসুন। তাবিজ-কবচ লাগে না, সুন্দর ব্যবহার করুন। কর্মঠ, বুদ্ধিমতী ও চপলমতি হোন। আলস্য ও গোমড়া মুখকে ঝেটিয়ে বিদায় করুন। না হয় এগুলোই আপনার সুখকে দাফন করে দেবে। তবুও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু দেখা দিলে ঘরের কথা বাইরে না বলে সবর করুন। চুপ থাকুন।


মনে রাখবেন, যার পেটের হজম শক্তি ভালো তার শরীর ভালো থাকে। আর যার কথা হজম করার শক্তি ভালো, সে সুখি হতে পরে।


আপনার স্বামী আপনাকে রেখে অন্য কারো দিকে ঝুকে পড়ে কখন? কেন? নিজেকে প্রশ্ন করেছেন কখনো? অনেক স্ত্রী নিজেকে এই প্রশ্ন করলেও অধিকাংই একটি সরল উত্তর পায়। তা হলো- “আমার স্বামী আসলে চরিত্রহীন। চোখ খারাপ। ভণ্ড। এর কাছে এসে আমার জীবনটাই শেষ ব্লা ব্লা…!” এই যে মিস শুনুন! একজন দীনদার স্বামীকে এসব বলতে লজ্জা করুন। আল্লাহকে ভয় করুন। বরং এসব কল্পনা করা থেকেও বিরত থাকুন। নতুবা সংসারের শান্তি স্রেফ উবে যাবে। ভালোবাসার অচিন পাখি আগামীকালের পরিবর্তে আজই ফুড়ুৎ করে উড়ে যাবে।


আপনার দীনদার স্বামী নিজের চরিত্র ও নজরকে হেফাজত করতে কী পরিমাণ স্ট্রাগল করে তা আপনি বুঝবেন না। কর্মস্থলে, পথেঘাটে, ডানেবামে এমনকি নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটলেও রাস্তায় পড়ে থাকা পেপার, কাগজ, বিভিন্ন লিফলেট ও বিজ্ঞাপনে নোংরা বিউটি কুইনদের অর্ধ-উলঙ্গ কামনীয় দেহ আঁকুপাঁকু করে তাকে ফুসলাতে থাকে। আর বেচারা স্বামীর চেয়েও এক ইঞ্চি বড় দীনদার(!) ইবলিশ সাহেব সেদিক থেকে খাহেশাতের বিষাক্ত তীর ঠিক তার হার্ট বরাবর ছুড়ে মারে। এই তীরের প্রভাব যে কতটা তীব্র হয় তা অব্যক্ত।


এছাড়াও কর্মস্থলে ও পথেঘাটে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কতশত সুন্দরী রমণীর মোহনীয় রুপের ছটায় সে বিধ্বস্ত হয় সে খবর কী আপনার আছে? এই বিধ্বস্ত অবস্থায় বেচারা যখন ঘরে ফিরে- সে তখন বাইরে থেকে দেখে আসা সুন্দরীদের চেয়েও অধিক সুন্দরী কারো সোহাগ চায়। আল্লাহ আপনাকে যেটুকু দিয়েছেন সেটুকুইতেই আপনি তার কাছে ভুবনজয়ী সুন্দরী।

তা না হলে সে আপনাকে বিয়ে করতো না। মনে রাখবেন, জগতের প্রতিটি স্ত্রীই তার স্বামীর কাছে অপরুপা হয়। তো আপনার যেটুকু আছে ঐটুকুই একটু পরিপাটি করে ডিসপ্লে করুন না! বাইরে বের হতে গেলে বোরকার নিচেও যেটুকু সাজুগুজু করেন, আপনার স্বামীর জন্য অন্তত এটুকু সাঁজুগুঁজুও আপনি করেন না। স্বামীর সামনে ঝলসে যাওয়া ড্রেসটা পড়েন। চুলগুলো পাটের বস্ত্র বানিয়ে রাখেন। সাংসারিক কাজ করে ঘেমে-নেয়ে এক্কেবারে জবুথবু হয়ে থাকেন। স্বামী বেচারা আপনাকে দেখলে তার ক্লান্ত শরীর আরও ক্লান্ত হয়ে যায়। অরুচি ধরে যায়। আর নফস ঠিক তখনই চান্স পেয়ে যায়। বাইরে দেখে আসা সুন্দরীদের নিয়ে নানান জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে যায়।এখানে দোষটা কার? নফস থেকে কেউ মুক্ত না। আসলে দোষ না। ব্যর্থতা। স্ত্রী হিসেবে আপনার ব্যর্থতাই আপনার স্বামীকে অন্যত্র চোখ ফেরাতে বাধ্য করছে। রিমাইন্ড ইউরসেল্ফ। প্রশ্ন করুন নিজেকে।


স্বামী ঘরে আসার আগেই গোসল করে, সুন্দর-আকর্ষণীয় জামাকাপড় পড়ে, পারফিউম (অবশ্যই হালাল হতে হবে। নারীদের জন্য নিজের স্বামীকে খুশি করতে নিরাপদ পরিবেশে সুগন্ধী ব্যবহার করা জায়েজ। অন্যথায় জায়েজ নেই।) ব্যবহার করে, টুকিটাকি সাজুগুজু করে নিজেকে বাইরের ফাহেসা নারীদের চেয়ে বেশি সুন্দর করে সাঁজিয়ে তৈরি রাখুন।
বাইরে থেকে আসলে দরজা পর্যন্ত গিয়ে তাকে এগিয়ে আনুন। হাতে কিছু থাকলে নিজ হাতে নিয়ে পাশে রেখে দিয়ে আগে বসতে দিন। একটু বাতাস করুন। জামার বুতামটা খুলে দিন। মিনিটখানেক পর একগ্লাস শরবত করে দিন। ব্যাস… ড্রাগ চেনেন ড্রাগ? ড্রাগ নিলে যেমন নেশায় ধরে, আপনার স্বামীকেও তেমন নেশায় ধরবে। আপনার নেশা। ভালোবাসার নেশা! হালাল নেশা!


তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসুন। সন্দেহ জড়িয়ে নয়, বিশ্বাসের মোড়কে সিরিয়াসরকমের ভালোবাসুন। আর এই বিশ্বাসের ভিক্তি এতটাই মজবুত রাখুন, যাতে সন্দেহের সাইক্লোন এসেও তা টলাতে না পারে।


প্রতিজ্ঞা করুন- আপনার স্বামীর প্রতি অন্য কোনো মেয়ের ভালোবাসা যাতে আপনার চেয়ে বেশি হতে না পারে। কেমন স্ত্রী আপনি? আপনার স্বামীকে অন্য একটা মেয়ে আপনার চেয়ে বেশি ভালোবাসা দেখিয়ে ছিনিয়ে নিতে চায়! রক্ত আছে আপনার শরীরে? জেদ হয় না? হ্যাঁ, স্বামীকে ভালোবাসা দিয়ে সেই জেদ মিটিয়ে নিন। জিতে যাবেন।


ছেলেদের প্রচুর ইগো। কোনোভাবে তাকে অপমান করবেন না। কটাক্ষ করবেন না। কোনো ত্রুটি নজরে আসলে যখন-তখন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। একান্ত সময়ে, বিনয়ের সাথে, ভালোবাসা মাখিয়ে বুঝিয়ে বলুন, রাজা-রাজ্য সবটাই আপনার হবে। ট্রাস্ট মি…


স্বামীকে রাজার মতো মানুন। রানির মর্যাদা পাবেন। গোলামের মতো ভাবলে- বান্দির মতো থাকবেন। চয়েজ আপনার।
স্বামী বাইরের পরিবেশ থেকে কেমন মন নিয়ে ফিরে আসে তা অজ্ঞাত। আপনার আশা- সে আজ গোলাপ হাতে ঘরে ফিরবে। আদর করে খোপায় গেঁথে দিয়ে সোহাগ করবে। কিন্তু এমনও তো হতে পারে- বেচারা আজ অ্যাক্সিডেন্টের হাত থেকে এযাত্রায় কোনোমতে বেঁচে ফিরল! নার্ভাসনেস তার রন্ধ্রে-রন্ধ্রে। রোমান্স গেছে আজ সোজা চান্দে! কী? অসম্ভব কিছু? সবকিছু হয়তো বলে না আপনাকে। আপনি দুঃশ্চিন্তা করবেন তাই। আপনি সারাদিন তার অপেক্ষায় থাকলেন। আর সে এসেই ধপাশ করে শুয়ে পড়ল। অমনি আপনি অপ্পপ্পপ্প… বুঝলেন না বেচারাকে। বিশ্বাস করুন! আপনার প্রতি ধীরেধীরে এভাবেই তার রুচি নষ্ট হয়ে যায়।


আপনার ইচ্ছা- সারাক্ষণ স্বামী আপনার পাশে থাকবে। আপনাকে ভালোবাসবে। আদিখ্যেতায় আপনাকে মাতিয়ে রাখবে। হে বোন! আপনার স্বামীর মনেও একই ইচ্ছা। একই আশা। স্বাদ-আহ্লাদ তারও কম নেই। কিন্তু দিনশেষে আপনার মুখে দু’মুঠো খাবার কে তুলে দেবে? আপনার অসুস্থতায় পাগলের মতো ছোটাছুটি করে ডাক্তারের পেছনে বেহিসাব টাকা কে বিলাবে? আপনার অনাগত সন্তানের দুলনিটা কে কিনে দেবে? বাবুর প্যাম্পাস, ছোটছোট জামা আর নানান পদের খেলনা কে এনে দেবে?


বোন আমার!

যে মানুষটি বিয়ের আগে দুরন্তপনায় একাধিক নোবেল পেয়েছে, গুরুজন কর্তৃক অকর্মার ঢেঁকি উপাধিতে ভূষিত হয়েছে, ঠিক সেই মানুষটিই আজ আপনার ও আপনার সন্তানের একটু নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য, দু’মুঠো ভাতের যোগান দেয়ার জন্য, সুনিশ্চিত এক ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে গোলাম বানিয়েছে, স্রেফ গোলাম। তাই সর্বদা তার থেকে তাজা গোলাপের আশা না করে মাঝেমধ্যে নিজেও একটি গোলাপ কি উপহার দেয়া যায় না? তাজা লাগবে না, জাস্ট কাগজে আঁকা খেলনা গোলাপ। কী! যায় না?!


এভাবে চেষ্টার সর্বোচ্চটা দিয়ে যখন বখে যাওয়া স্বামীর জন্য শেষরাতে রবের কাছে দু’হাত তুলবেন, চোখের পানিতে কাজল মুছবেন- ইন-শা-আল্লাহ আপনি বিজয়ী হবেন। জ্বী, বোন, আপনিই বিজয়ী হবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here