মূসা (আ.) এর জাতির উপর একবার দুর্ভিক্ষ প্রেরণ করা হলাে।

0
14
Once a famine was sent upon the people of Moses

মূসা (আ.) এর জাতির উপর একবার দুর্ভিক্ষ প্রেরণ করা হলাে।

লেখক সাজিদ

আল্লাহ যখন আমাদের প্রতি কোনাে আচরণ করেন, উম্মাহ হিসেবে আচরণ করেন, আলাদা আলাদা ব্যক্তি হিসেবে না। আল্লাহর বরকত যখন আসে, কার উপর আসে? সবার উপর। আল্লাহর আযাব যখন আসে, সেটাও আসে সবার উপর! এটাই আল্লাহর সিস্টেম। আল্লাহর রহমত নাযিল হলে সবাই সেখান থেকে উপকৃত হতে পারে। তেমনি, আল্লাহর গযব নাযিল হলে সবাইকেই তা ভােগ করতে হয়।

 মূসা (আ.) এর জাতির উপর একবার দুর্ভিক্ষ প্রেরণ করা হলাে। মূসা (আ), যিনি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলার সৌভাগ্য অর্জন করেন, তাঁর জাতির উপর নেমে এলাে ভয়হ এক দুর্ভিক্ষ! জাতির প্রত্যেকে কষ্ট ভােগ করছে। পানি নেই, খাবার নেই, ফসল নেই, পশু মরছে, মানুষ মরছে। অথচ তাদের মাঝে একজন নবি রয়েছেন। মানুষ তাঁর কাছে এসে জানতে চাইল, হে মূসা! এসব কী হচ্ছে? মূসা (আ.) তাঁর জাতির লোকদের নিয়ে খােলা ময়দানে গেলেন। দুআ করলেন, হে আল্লাহ! আপনি দেখতে পাচ্ছেন আমার জাতির কী অবস্থা। আমরা বৃষ্টির জন্য অনুনয় করছি। একজন নবি দুআ করলে স্বভাবতই আল্লাহর উত্তর কী হয়? তিনি তা কবুল করেন। সবাই অপেক্ষা করছে এই বুঝি বৃষ্টি আসলাে, কিন্তু কিছুই হচ্ছে না। আল্লাহর একজন নবি, অনুনয় বিনয় করে সবাইকে নিয়ে দুআ করছেন, কিন্তু দুআর কোনাে উত্তর নেই! ভাবতে পারেন! 

মূসা (আ.) ভাবছেন, ইয়া আল্লাহ! এ কী হলাে? আমি বৃষ্টির জন্য দুআ করলাম, অথচ কোনাে বৃষ্টি নেই! আল্লাহর পক্ষ থেকে জবাব এলাে, হে মূসা! তােমার জাতির মধ্যে একজন গুনাহগার আছে।

মূসা (আ.) লােকেদের দিকে ঘুরে বললেন, তােমাদের মধ্যে একজন গুনাহগার আছে। সে সামনে বেরিয়ে এসাে। ওই ব্যক্তি মনে মনে অনুতপ্ত হলাে, তাওবা করল। কিন্তু মূসা (আ.) এর সামনে বেরিয়ে এসে পরিচয় দিল না। মূসা (আ.) অপেক্ষা করছেন, কেউ আসে না। তিনি ফিরে গিয়ে আবার আল্লাহর কাছে বৃষ্টির। জন্য দুআ করলেন। এবার তাঁকে অবাক করে দিয়ে বৃষ্টি নেমে এলাে! মূসা (আ.) খুশি, কিন্তু সেই সাথে অবাক। ইয়া আল্লাহ! এটার ব্যাখ্যা কী? প্রথমবার বৃষ্টি চাইলাম, বলা হলাে একজন গুনাহগার আছে৷ গুনাহগারকে ডাকলাম, কেউ এলাে না। আবার দুআ করলাম, বৃষ্টি চলে এলাে! ব্যাপারটা কী? আল্লাহ জানালেন, ওই এক ব্যক্তির কারণে আমি বৃষ্টি আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু সে তাওবা করেছে, আমার কাছে মাফ চেয়েছে। আমি তার তাওবা কবুল করেছি। এবং সেই একজন ব্যক্তির তাওবার কারণেই এখন আমি বৃষ্টি দান করলাম। মূসা (আ.) এর খুব আগ্রহবােধ হলাে। হে আল্লাহ! এই লােকটি কে? আমাকে তার পরিচয় জানান। আল্লাহ বললেন, হে মূসা! সে যখন গুনাহগার ছিল, তখনই আমি তাকে প্রকাশ। করে দেইনি। আর এখন যখন সে আমার কাছে খালেসভাবে তাওবা করেছে, এখন কী করে আমি তাকে প্রকাশ করে দেই?

আমরা এই কাহিনী পড়ার পর ভাবি, আরে কী অসাধারণ কাহিনী! বৃষ্টি চলে এলাে। তারপর তারা সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল। কিন্তু বৃষ্টি আসাটা এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলাে, সেই লােকটি নিজের গুনাহ স্বীকার করার মতাে যথেষ্ট সাহসী ছিল, তাওবা করার মতাে যথেষ্ট হিম্মত তার ছিল। যেই গুণ আজ আমাদের বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে নেই। আমাদের শহরে আজ কত গুনাহগার, কত মুসলিম বেনামাজি, আমাদের কত বােন বেপর্দা, আমাদের কত মুরুব্বি সূরাহ ফাতিহা পড়তে জানে না! শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির পাপের কারণে আল্লাহ একজন নবির উপর, নবির পুরাে একটি জাতির উপর, মৃত্যুপথযাত্রী, নিরীহ নারী, শিশু, পশু, ফসলের উপর বৃষ্টি দেননি! শুধু এক ব্যক্তির গুনাহের কারণে! তাহলে আজ আমাদের অবস্থা কেমন হওয়া উচিত?

কয়জন আমরা আজ সাহস করে উম্মাহর দুর্দশার জন্য নিজেকে দায়ী করতে পারব? বলতে পারব যে এইসব আমার গােপনে করা গুনাহের ফল। আমার জিহ্বার ফল—যাকে আমি চুপ রাখতে পারিনি, আমার দৃষ্টির ফল—যাকে আমি অবনত রাখতে পারিনি? কিন্তু না! আমরা নিজেকে ছাড়া বাকি সবার দিকে আঙুল। তুলি। আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন,

“আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা। তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।” (সূরাহ রা’দ, ১৩:১১)।

এখনও আপনি এই কথাগুলাে পড়ে নিজের পাশে বসা লােকটির কী কী পরিবর্তন হওয়া দরকার, তা ভাবছেন। এখনও আপনি নিজের কথা ভাবছেন না। আপনি যত গুনাহ করেন, তার সরাসরি প্রভাব খালি উম্মাহর উপরেই পড়ে না, আপনার উপরও পড়ে। আপনার দ্বীনের অভাব, আপনার বুঝের অভাব, আপনার সালাত ত্যাগ, আপনার করা প্রতিটা হারামের প্রভাব আপনার সন্তানের উপর পড়ে, আপনার বাবা-মায়ের উপর পড়ে, পুরাে উম্মাতের উপর পড়ে।

 এটা উল্টোদিক থেকেও সত্য। আপনি যখন কোনাে নেক আমল করেন, এতে একা আপনারই উপকার হয় না। পুরাে উম্মাতের উপকার হয়। আমাদের যাদের অন্তরে তাওহিদ আছে, আমরা সবাই ইসলামের ব্যানারের অধীনে পড়ি, মুসলিম পরিচয়ের ভেতরে পড়ি। রাসূল (সা.) উম্মাত বােঝাতে বলেননি যে, তারা একটি পরিবারের মতাে। কেননা, এমনকি পরিবারের মধ্যেও আপনি ভাইয়ের সাথে বা মায়ের সাথে কথা না বলে থাকতে পারেন। যদিও এসব হারাম, কিন্তু আপনার সেটা করার ক্ষমতা তাে আছে। আপনি সন্তানের দেখাশােনা না করতে পারেন, তাদের ত্যাজ্য করতে পারেন। কিন্তু আপনি কি আপনার হাতের দিকে তাকিয়ে বলতে পারবেন, এই জিনিসটা ভালাে দেখাচ্ছে না, কেটে ফেলি এটা? না, পারবেন না। কারণ এটা আপনার অংশ, আপনাকে এটা নিয়ে বাঁচতে হবে। তাই নবিজি উম্মাতের উদাহরণ দেওয়ার সময় একে একটা দেহের সাথে তুলনা করেছেন, আপনি যার কাছ থেকে নিজেকে কখনাে আলাদা করতে পারবেন না!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here